নিউজটুডেফরিদপুরঃ
নাম শুনে মনে হতে পারে এ আবার কেমন নেশা? সেবন ই বা করে কিভাবে? নামটি নতুন মনে হলেও মাদকের চেয়ে ভয়ংকর রুপ নিয়েছে এ নেশাটি। ফরিদপুরের শহরে থেকে গ্রামে কিশোর যুবকরাই সব থেকে বেশী আক্রান্ত এ নেশায়। বলছি চলমান আইপিএল নিয়ে জুয়া খেলার আসরের কথা, যার স্থানীয় নাম চিকন মোটা।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) নিয়ে জুয়া খেলার বিষয়টি নতুন নয় কিংবা কারো অজানাও নয়। আন্তর্জাতিক গন্ডি ছাড়িয়ে তা এখন চলে এসেছে দেশের গ্রামগঞ্জ আর মাঠে ঘাটে।
মুলত ক্রিকেট খেলায় দুর্বল দলটি চিকন আর সবল দলটি মোটা। আবার যার মাঠে খেলা সে মোটা। ঠিক এভাবেই মোটা চিকন নির্ধারন হয়।
ফরিদপুর শহর ও চরভদ্রাসন উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে, মাঠে, দোকানে, হোটেলে চলছে এই জুয়া। পরিচয় গোপন রেখে সরেজমিন ঘুরে বিভিন্ন বাজারের দোকানে গেলে দেখা যায় অনেকেই খুব উৎসুক হয়ে ক্রিকেট খেলা দেখছেন। কিন্ত এর মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে চিকন মোটার দল। সাধারনত নিচে পাঁচশত উপরে লাখ পেড়িয়ে যায় বাজীর অংক।
বিশ্বাস এদর মূল পূজী। বিস্বস্ত মধ্যস্তাকারীর কাছে টাকা জমা দেয়া হয়। মূলত মূঠোফোনের মাধ্যমে তিনিই নিয়ন্ত্রন করেন এ খেলা। বিনিময়ে সে কমিশন নিয়ে থাকে। ক্রিকেটের দূর্বল দলটি চিকন ও শক্তিশালী দলটি মোটা সাংকেতিক নাম ব্যবহার করা হয়। এমন কি প্রতি বলে ছয়/চার/ কত রান হবে, উইকেট পরবে, ওয়াইড, নো বল হবে কিনা এ নিয়েও চলে বাজী। অবশ্য এ বাজী খেলা দেখা অবস্থাতেই চলতে থাকে।
এদের আবার রয়েছে একাধীক কমিটি, রয়েছে বড় ভাইও । নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের ধানসিড়ি রেস্টেুরেন্টে এর এক কর্মী জানান, মহল্লায় মহল্লায় কমিটি ছাড়াও রয়েছে, থানা ও জেলা কমিটি। সবার উপরে রয়েছে বড় ভাই নামক কেউ। তারাই সব নিয়ন্ত্রন করেন। বাজীতে হেরে যদি টাকা না দেয় কেউ, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্ন শুনে এই কর্মী জানালেন, তাদের এই টাকা আদায়ে রয়েছে শালিস কমিটি ও আদায় কমিটি। টাকা না দিয়ে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। জিতলে তো তারা এসে টাকা পৌছে দিয়ে যায় তবে হারলে কেন টাকা দিবে না।
ইতিমধ্যে এর প্রভাব পরেছে জেলে, রিক্সা চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কর্মজীবি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর। বাজীতে হেরে গিয়ে অনেক কিশোরই জরিয়ে পরছেন অপরাধ জগতে। বাড়ছে সামাজিক অপরাধও।
পরিচয় গোপন রেখে মাধ্যমিক স্কুলের এক ছাত্র ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধমে এই প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করে বেশ কিছু স্থীর চিত্র প্রদান করে। তাতে দেখা যায় কিছু কিশোর ক্রিকেট খেলছে পরে আর্থিক লেনদেন করছে।
তার দেয়া তথ্যের সত্যতা যাচই করতে গিয়ে মোটা চিকন খেলার ভয়াবহতা দেখতে পাওয়া গেছে। এক সময় শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও অনলাইন ও মুঠোফোনের মাধ্যমে এই জুয়া প্রত্যান্ত চরাঞ্চলেও বিস্তার লাভ করেছে।
গত ২১ এপ্রিল চরভদ্রাসনের সদর ইউনিয়নের জাকেরের সূরা স্লুইজ গেট সংলগ্ন নামাজের মাঠ নামক স্থানে কিছু কিশোরকে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। কৌশলে তাদের থেকে জানা যায় ছয় শত টাকা বাজিতে চার ওভারের খেলা খেলছে তারা। এরকম দৃশ্য চরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বলে জানায় একাধিক সূত্র।
গত এক মাসে শহরের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও গুরুত্বপূর্ন স্পট, চরভদ্রাসন উপজেলার মাথাভাঙ্গা, চরসুলতানপুর, কানাইরটেক, জাকেরের সুরা, চরভদ্রাসন কলেজ মাঠ, চরহাজিগঞ্জ বাজার, চরভদ্রাসন বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এই জুয়া খেলার সত্যতা মিলেছে। আপাত দৃষ্টিতে ক্রিকেট খেলছে, টিভিতে খেলা দেখছে মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে বেশির ভাগ শিশু কিশোর এই নেশায় আক্রান্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই জুয়ার নেশায় আক্রান্ত চরভদ্রসান বাজারের এক ব্যবসায়ী বেশ জানালেন “ছোট ব্যবসা করি আমি, এই খেলার নেশায় পরে সর্বশান্ত হয়ে গেছি ভাই। একদিন এক হাজার টাকা পেলে ঐ লোভে আবার খেলতে ইচ্ছা করে। লাভের চেয়ে লুকসানই বেশী।তবে বড় বড় বাজীও ধরে টাকা ওয়ালারা। এমনকি বিদেশ থেকে বিকাশের মাধমে টাকা পাঠিয়ে বাজী ধরে। আমি এখন আর খেলি না। আর এই খেলা বন্ধ করাও সম্ভব না।’
গাজীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী বলেন বিষয়টি সম্পর্কে আমি বেশি দিন হয়নি জানতে পেরেছি। আমার বিভিন্ন ওর্য়াড মেম্বারদের বলেছি অভিবাবকদের সভার মাধ্যমে সচেতন করার জন্য।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাম প্রশাদ ভক্ত বলেন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। তারপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার বলেন গত আইন শৃঙ্খলা সভায় ক্রিকেট জুয়ার ব্যপারে আলোচনা হয়েছে। গ্রাম পুলিশদের বিষয়টি পর্যবেক্ষনের নির্দেশ দিয়েছি। সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #
নাম শুনে মনে হতে পারে এ আবার কেমন নেশা? সেবন ই বা করে কিভাবে? নামটি নতুন মনে হলেও মাদকের চেয়ে ভয়ংকর রুপ নিয়েছে এ নেশাটি। ফরিদপুরের শহরে থেকে গ্রামে কিশোর যুবকরাই সব থেকে বেশী আক্রান্ত এ নেশায়। বলছি চলমান আইপিএল নিয়ে জুয়া খেলার আসরের কথা, যার স্থানীয় নাম চিকন মোটা।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) নিয়ে জুয়া খেলার বিষয়টি নতুন নয় কিংবা কারো অজানাও নয়। আন্তর্জাতিক গন্ডি ছাড়িয়ে তা এখন চলে এসেছে দেশের গ্রামগঞ্জ আর মাঠে ঘাটে।
মুলত ক্রিকেট খেলায় দুর্বল দলটি চিকন আর সবল দলটি মোটা। আবার যার মাঠে খেলা সে মোটা। ঠিক এভাবেই মোটা চিকন নির্ধারন হয়।
ফরিদপুর শহর ও চরভদ্রাসন উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে, মাঠে, দোকানে, হোটেলে চলছে এই জুয়া। পরিচয় গোপন রেখে সরেজমিন ঘুরে বিভিন্ন বাজারের দোকানে গেলে দেখা যায় অনেকেই খুব উৎসুক হয়ে ক্রিকেট খেলা দেখছেন। কিন্ত এর মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে চিকন মোটার দল। সাধারনত নিচে পাঁচশত উপরে লাখ পেড়িয়ে যায় বাজীর অংক।
বিশ্বাস এদর মূল পূজী। বিস্বস্ত মধ্যস্তাকারীর কাছে টাকা জমা দেয়া হয়। মূলত মূঠোফোনের মাধ্যমে তিনিই নিয়ন্ত্রন করেন এ খেলা। বিনিময়ে সে কমিশন নিয়ে থাকে। ক্রিকেটের দূর্বল দলটি চিকন ও শক্তিশালী দলটি মোটা সাংকেতিক নাম ব্যবহার করা হয়। এমন কি প্রতি বলে ছয়/চার/ কত রান হবে, উইকেট পরবে, ওয়াইড, নো বল হবে কিনা এ নিয়েও চলে বাজী। অবশ্য এ বাজী খেলা দেখা অবস্থাতেই চলতে থাকে।
এদের আবার রয়েছে একাধীক কমিটি, রয়েছে বড় ভাইও । নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের ধানসিড়ি রেস্টেুরেন্টে এর এক কর্মী জানান, মহল্লায় মহল্লায় কমিটি ছাড়াও রয়েছে, থানা ও জেলা কমিটি। সবার উপরে রয়েছে বড় ভাই নামক কেউ। তারাই সব নিয়ন্ত্রন করেন। বাজীতে হেরে যদি টাকা না দেয় কেউ, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্ন শুনে এই কর্মী জানালেন, তাদের এই টাকা আদায়ে রয়েছে শালিস কমিটি ও আদায় কমিটি। টাকা না দিয়ে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। জিতলে তো তারা এসে টাকা পৌছে দিয়ে যায় তবে হারলে কেন টাকা দিবে না।
ইতিমধ্যে এর প্রভাব পরেছে জেলে, রিক্সা চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কর্মজীবি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর। বাজীতে হেরে গিয়ে অনেক কিশোরই জরিয়ে পরছেন অপরাধ জগতে। বাড়ছে সামাজিক অপরাধও।
পরিচয় গোপন রেখে মাধ্যমিক স্কুলের এক ছাত্র ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধমে এই প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করে বেশ কিছু স্থীর চিত্র প্রদান করে। তাতে দেখা যায় কিছু কিশোর ক্রিকেট খেলছে পরে আর্থিক লেনদেন করছে।
তার দেয়া তথ্যের সত্যতা যাচই করতে গিয়ে মোটা চিকন খেলার ভয়াবহতা দেখতে পাওয়া গেছে। এক সময় শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও অনলাইন ও মুঠোফোনের মাধ্যমে এই জুয়া প্রত্যান্ত চরাঞ্চলেও বিস্তার লাভ করেছে।
গত ২১ এপ্রিল চরভদ্রাসনের সদর ইউনিয়নের জাকেরের সূরা স্লুইজ গেট সংলগ্ন নামাজের মাঠ নামক স্থানে কিছু কিশোরকে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। কৌশলে তাদের থেকে জানা যায় ছয় শত টাকা বাজিতে চার ওভারের খেলা খেলছে তারা। এরকম দৃশ্য চরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বলে জানায় একাধিক সূত্র।
গত এক মাসে শহরের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও গুরুত্বপূর্ন স্পট, চরভদ্রাসন উপজেলার মাথাভাঙ্গা, চরসুলতানপুর, কানাইরটেক, জাকেরের সুরা, চরভদ্রাসন কলেজ মাঠ, চরহাজিগঞ্জ বাজার, চরভদ্রাসন বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এই জুয়া খেলার সত্যতা মিলেছে। আপাত দৃষ্টিতে ক্রিকেট খেলছে, টিভিতে খেলা দেখছে মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে বেশির ভাগ শিশু কিশোর এই নেশায় আক্রান্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই জুয়ার নেশায় আক্রান্ত চরভদ্রসান বাজারের এক ব্যবসায়ী বেশ জানালেন “ছোট ব্যবসা করি আমি, এই খেলার নেশায় পরে সর্বশান্ত হয়ে গেছি ভাই। একদিন এক হাজার টাকা পেলে ঐ লোভে আবার খেলতে ইচ্ছা করে। লাভের চেয়ে লুকসানই বেশী।তবে বড় বড় বাজীও ধরে টাকা ওয়ালারা। এমনকি বিদেশ থেকে বিকাশের মাধমে টাকা পাঠিয়ে বাজী ধরে। আমি এখন আর খেলি না। আর এই খেলা বন্ধ করাও সম্ভব না।’
গাজীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী বলেন বিষয়টি সম্পর্কে আমি বেশি দিন হয়নি জানতে পেরেছি। আমার বিভিন্ন ওর্য়াড মেম্বারদের বলেছি অভিবাবকদের সভার মাধ্যমে সচেতন করার জন্য।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাম প্রশাদ ভক্ত বলেন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। তারপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার বলেন গত আইন শৃঙ্খলা সভায় ক্রিকেট জুয়ার ব্যপারে আলোচনা হয়েছে। গ্রাম পুলিশদের বিষয়টি পর্যবেক্ষনের নির্দেশ দিয়েছি। সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #


No comments:
Post a Comment