ভাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ,পুলিশ সাংবাদিক সহ আহত শতাধীক। - NEWS TODAY FARIDPUR

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Sunday, February 22, 2015

ভাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ,পুলিশ সাংবাদিক সহ আহত শতাধীক।

মোঃ রমজান সিকদার, ভাঙ্গা থেকে ঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের ছোলনা বাজারে রোববার ভোরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সকাল ৮টা থেকে টানা দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা সংর্ঘষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ শতাধীক লোকজন আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ শতাধীক রাইন্ড ফাকা গুলি করে।
আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক ভুইয়া জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন যাবৎ ভাঙ্গা-ছোলনা আঞ্চলিক সড়কে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চলাচল নিয়ে সুয়াদী গ্রাম ও সোনাখোলা গ্রামের চালকদের মাঝে বিবাদ চলে আসছিল। এ ঘটনার সুত্র ধরে রোববার সকালে সোনাখোলা গ্রামের ইজিবাইক চালক সবুজকে সুয়াদী গ্রামের কয়েকজন চালক মারধর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী সংঘর্ষে জরিয়ে পরে। ধীরে ধীরে সংঘর্ষ আশে পাশের অন্তত ৩৩ গ্রামে ছড়িয়ে পরে। গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে হামলা ভাংচুর করে।
খবর পেয়ে প্রথমে ভাঙ্গা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় পুলিশ শতাধীক রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক লিয়াকত, মিরাজ, আহাদ, মোস্তফা ও কনস্টবল ফায়েক আহত হন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এসময় দৈনিক যুগান্তরের স্থানীয় প্রতিনিধি হাজী আঃ মান্নান আহত হন। এদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে আইয়ুব মুন্সি, হাবলু মিয়া ও ফজলু দারোগার বাড়ীতে ভাঙচুড় ও অগ্নিসংযোগ করে প্রতিপক্ষ। এসময় শতাধীক বাড়ী ভাংচুর করে নগত টাকা ও মালামাল লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষকারীদের পদদলিত হয়ে শত শত বিঘা জমির পিয়াছ, গম, মুসুরী সহ উঠতি রবি শস্যর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধীক লোক আহত হয়েছে। এদের মধ্যে উজ্জল, সাঈফুল ইসলাম শাওন, নবাব আলী, ঝিল্লু মিয়া, ছাদেক মুন্সি, জলিল মিয়া, হাবলু সেক, মিলন, মোঃ গিয়াস, হায়দার হোসেন, মোসলেম মিয়া, রুবিয়া বেগম, রুমা বেগম, জাহাঙ্গির, কামরুজ্জামান, শাহাদাৎ হোসেন, সরোয়ার হোসেন, রসিদ মুন্সি, জাকির হোসেন, ইকরাম, কামরুল, আজিজুল, সালাম, জব্বার, রবিউল, হারুন মাতুব্বর, আরিফ, মিরানা বেগম, হাবুল মাতুব্বর, মাহফুজ, খায়রুল, ময়না, রোকেয়া, আকবর, বেল্লাল মাতুব্বর, হারুন, মোসলেম সর্দার, গফফার মাষ্টার সহ আরো অনেককে ভাঙ্গা ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইন চার্জ নাজমুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমি ও আমার অর্ধশত ফোর্স নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে চেষ্টা করি। প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়াতে মুষ্টিমেয় পুলিশ নিয়ে প্রাথমিক ভাবে নিয়ন্ত্রন আনতে চেষ্টা করি। তবে গুজব সংবাদের কারনে সংঘর্ষটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়াতে জান মালের ক্ষতি হয়। পরে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত ফোর্স আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে এবং ওই সব গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমি স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসিকে শান্ত করার চেষ্টা করি।
ফরিদপুর, ২২ ফেব্রুয়ারী।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages