হুমকির মুখে ফরিদপুর শহর রক্ষা বাধ, পদ্মায় চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন - NEWS TODAY FARIDPUR

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, March 11, 2015

হুমকির মুখে ফরিদপুর শহর রক্ষা বাধ, পদ্মায় চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

নিউজ টুডে ফরিদপুর, ১১ মার্চ
ফরিদপুরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের দুই নং ওয়ার্ডের বালিয়া ডাংগী গ্রাম এলাকায় ফরিদপুর শহর রক্ষাবাধ সংলগ্ন স্থান থেকে অবৈধ ভাবে বালু  উত্তোলন করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। আর দিনে রাতে কয়কশ বালু বোঝাই ভারী যানবাহন চলছে বাধের উপর দিয়ে। একারণে ফরিদপুর শহর রক্ষাবাধ হুমকির মুখে পড়ার আশংকা রয়েছে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত এক মাস ধরে ডিক্রির চর ইউনিয়নের ধলার মোড থেকে পশ্চিম বালিয়া ডাংগী পর্যন্ত বিস্তৃর্ণ এলাকায় একাধিক এক্সেবেটর, ট্রাক, ট্রলি দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দিন রাত মিলে চার থেকে পাচশ বালু বোঝাই এসব ভারী যানবাহন শহর রক্ষাবাধের উপর দিয়ে চলাচল করছে বেপরোয়া ভাবে। এসব কারনে শতাধীক কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মিত শহর রক্ষাবাধ প্রকল্পটি এখন হুমকির মুখে পরেছে। এই ঘটনায় নতুন করে এলাকাবাসীর মধ্যে ভাঙ্গন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, ডিগ্রীরচর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মিন্টু ফকিরের নেতৃত্বে বদরোদ্দিন শেখ, কুমারেশ বাবু, চার নং ওয়ার্ড নেতা মোকলেছ, আয়ুব মোল্যা, সের আলী, বাচ্চু শেখ এ সব বালু উত্তোলন তদারকি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুসা শেক বলেন , নীতি মালা তোয়াক্কা না করে কিভাবে এরা বালু উত্তোলন করছে। তিনি বলেন, এলাকার কিছু  প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা এবং বিএনপি কিছু নেতারা মিলে এই কাজ করছেন। শহর রক্ষা বাধের পাশে বাড়ী করেছে রহমান শেখ। তিনি জানান, ‘অনেক আশা করে বাঁধের পাশে ঘড় তুলছিলাম দিনে রাইতে হমানে  ঘড় ঘেইষা বড় বড় গাড়িগুলা বাঁলি নিয়া যায়। সরকার এত টেহা খরজ কইরা লাভ কি অইল আমাগো’।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএন্ডবি ঘাটের একজন বালু ব্যবসায়ী জানান, আব্দুর রব, মিন্টু ফকির ও আইয়ুব মোল্লা গ্রুফের বালি বিক্রি প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকার মত। তারা জানান, শহররক্ষা বাধের উপর দিয়ে যে ভাবে দিনে শত শত ট্রাক যাতায়াত করছে তাতে বাধ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে উত্তোলনকারীদের একজন আইয়ুব মোল্লা জানান, পাউবোর অনুমোদন নিয়ে এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মিন্টু ফকির জানান, পদ্মার চরের জেগে উঠা আমাদের জমি থেকেই বালু উত্তোলন করছি। সরকারি অনুমোদন বিষয়ে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রাথমিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে । তিনি আরো বলেন, আমার জমির বাইরে যে জায়গায় থেকে বালু তুলা হচ্ছে সে সব জমির মালিকরা আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে।
ডিক্রিরচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ফজল বলেন, তিনি বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে কিছুই জানেন না। এরপরই তিনি বলেন, কে বা কারা উত্তোলন করছে জানি না, তবে আমার দলের কোন নেতাকর্মী এর সাথে জড়িত নয়। তবে বালূ উত্তোলনে বাধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, কাউকে বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি । তিনি বলেন আমি বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি কিন্তু আমরা সেখানে গেলে ওরা চলে যায় । শহর রক্ষা বাধ হুমকির মুখে কিনা এ প্রসঙ্গে বলেন, বাধের উপরদিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল নদী শাসন আইনের পরিপন্থি, বিষয়টি আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি।
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরে জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী বলেন, শহর রক্ষা বাধটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে নদী ভাঙ্গন থেকে শহরকে রক্ষা করেছে। বাধের উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করলে তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব ধরনের বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এরপরও কেউ উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। #
ফরিদপুর, ১১ মার্চ, ২০১৫।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages