![]() |
| স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আফজাল হোসেন, যিনি সংবাদকর্মীদের তার রুম থেকে বের করে দেন। |
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় শনিবার ভূমিকম্পে অসুস্থ্য হয়ে পড়া রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করতে উপজেলা হাসপাতালে গেলে সাংবাদিকদের লাঞ্চিত করে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মহিউদ্দিন। শনিবার বেলা ১২:১২ মিনিটে ভূমিকম্পে উপজেলার চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ জন শিক্ষার্থী বিজয়, রুপালী ও জুবায়ের মাথা ঘুরে পরে গিয়ে অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাদেরকে তাৎক্ষনিক চরভদ্রাসন স¦াস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মহিউদ্দিন চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। দৈনিক ইত্তেফাকের স্থানীয় প্রতিনিধি মুস্তাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী এসময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদকর্মীরা জানান, সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হয়ে আহতদের নাম, পরিচয় ও ছবি নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় ওই চিকিৎসক ছবি তুলতে বাধা দেন এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। সংবাদকর্মীরা এসময় প্রতিবাদ জানালে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করেন। উপস্থিত সংবাদকর্মীরা বিষয়টি চরভদ্রাসন প্রেসক্লাব সভাপতি মো. মেজবাহ উদ্দিনকে জানালে তিনি সংবাদকর্মীদের সাথে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আফজাল হোসেন এর নিকট বিষয়টি বলতে যায়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কোন কথা না শুনে ওই চিকিৎসকের পক্ষে সাফাই গাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকরা তাদের কথা শোনার জন্য অনুরোধ করলে তিনি সংবাদকর্মীদের তার রুম থেকে বের করে দেন এবং বলেন সব সাংবাদিক তার চেনা আছে।
পরে সংবাদকর্মীরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসির উদ্দিনকে অবহিত করেন।
চরভদ্রাসন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মেজবা উদ্দিন জানান, কয়েকদিন আগে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিং এ হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হয় এবং পত্রিকাতে এ নিয়ে খবরও প্রকাশ করা হয়। মূলত এর যের ধরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংবাদকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে।
এদিকে মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, সংবাদকর্মীদের সাথে তার চিকিৎিসকের কথা কাটাকাটি হয়েছে স্বিকার করে নামাযের পরে ফোন করতে বলে তিনি লাইন কেটে দেন। এরপর একাধীকবার তার মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এব্যাপারে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন অসিত রঞ্জন দাস বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং হাসপাতালের কেউ দোষী হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। #
ফরিদপুর, ২৫ এপ্রিল, ২০১৫।

No comments:
Post a Comment