সদরপুরে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগ - NEWS TODAY FARIDPUR

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Monday, October 19, 2015

সদরপুরে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগ

সাব্বির হাসান, সদরপুর থেকেঃ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরনাসিরপুর ইউনিয়নের বাবর আলী মোল্যা কান্দি গ্রামে  রিনা বেগম(২৫) নামে এক গৃহবধুকে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ওই গৃহবধু। স্বামী ও শশুড় বাড়ির লোকজন তার উপর নির্যাতন চালায়। এই ঘটনায় রিনা বেগম বাদী হয়ে সদরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যতন দমন আইনে স্বামী শশুড়সহ ৫জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। নির্যাতনে আহত ওই গৃহবধু বর্তমানে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পলেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধু ওই গ্রামের খলিল মাতুব্বরের ছেলে বিপ্লব মাতুব্বররের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের নাজেম হাওলাদার কান্দি গ্রামের কালাম দেওয়ানের মেয়ে।
রিনা বেগমের পারিবারিক ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে রিনার উপর নির্যাতন করত স্বামী ও শশুড় বাড়ির লোকজন। গত বুধবার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন মিলে প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটায় রিনাকে। একপর্যায়ে চাকু দিয়ে আঘাত করা হয় তার শরীরের একাধীক স্থানে। ওই গৃহবধুর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে ওই গৃহবধু দৌড়ে পাশের বাড়ি আশ্রয় নেন। প্রতিবেশী ওই বাড়ির মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রিনা বেগম ঘটনাটি বাবার বাড়িতে জানালে স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
পারিবারিক সুত্রে আরো জানা গেছে, প্রায় ৩ বছর আগে বিপ্লব মাতুব্বরের সাথে বিয়ে হয় রিনা’র। বিয়ের সময়ই নগদ ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয় বিপ্লবকে। এরপর রিনার বাবার কাছ থেকে ধার নেয়ার কথা বলে আরো দেড় লাখ টাকা নেয় বিপ্লব যা আর ফেরত দেয়নি সে। নতুন করে আরো ৫০হাজার টাকা ব্যবসার জন্যে চাইলে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রিনার উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে বিপ্লব। ৩ বছরের সংসার জীবনে মোরশেদা নামে ২ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে রিনা দম্পত্বির।
রিনার বাবা জানান, আমার টাকা দেয়ার ক্ষমতা নেই। তাই বারবার ওর কাছে মিনতি করেছি মেয়েটিকে যাতে নির্যাতন না করে। ওই গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. করিম জানান, এ ঘটনা নিয়ে আমরা এলাকায় কয়েকবার সালিশ বৈঠক করেছি কিন্তুু ছেলেটি বাজে প্রকৃতির হওয়ায় এবং নেশাগ্রস্থ থাকায় কোনো সমাধান করতে পারিনি।
সদরপুর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইস্মিতা রায় জানিয়েছেন, প্রথম যেদিন রিনাকে ভর্তি করা হয় সেদিন তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল ছিল। আজ পর্যন্ত তিনি অনেকটাই সুস্থ। আগের থেকে অনেক ভাল অবস্থায় রয়েছেন তিনি। এব্যাপারে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক আ. জলিল জানান, মামলার আসামীদের মধ্যে রিনার শ্বশুর কে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এবং বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।#
নিউজ টুডে ফরিদপুর, ১৯ অক্টোবর।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages