নিউজটুডেফরিদপুরঃ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় এ বছর পেয়াজের বাম্পার ফলন ও ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় অর্থনৈতিক ভাবে লাভের মুখ দেখছে কৃষক। চলতি মৌসুমের শুরু থেকে পেয়াজের বাজার দর বেশি থাকায় উপজেলার চাষিরা পেয়াজ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। গত বছর যার চিত্র ছিল সম্পুর্ন উল্টো ৪০০/৫০০টাকা দরে পেয়াজ বিক্রি করে সর্বশান্ত হয়ে পরেছিল কৃষক।
গত কয়েক সপ্তাহে উপজেলার সদর বাজারের (সোমবার)হাট ঘুরে দেখা যায় প্রতিমন মুরিকাঠা পেয়াজ ১২শত থেকে ১৪শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত শুক্রবার হাঠে পেয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২শত থেকে ১৫শত টাকা মন। অত্র উপজেলা সদরে শুক্রবার ও সোমবার হাট বসে আর এ হাটে আসা পেয়াজ ঢাকা,গাজীপুর,বরিসাল ও ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপপ্তানি হয়ে থাকে বলে জানায় স্থানীয় ব্যাপারীরা।
বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা মো. ইব্রাহীম খাঁ জানায় ‘তিনি এ বছর ৫২ শতাংশে বিঘার ৫ বিঘা জমিতে পেয়াজ লাগিয়েছে। লাগানো থেকে শুরু করে হাটে উঠানো পর্যন্ত বিঘা প্রতি তার খরচ পরবে ৫০ হাজার টাকা পেয়াজের বাজার দর ভালো থাকায় বিঘাপ্রতি ৯০হাজার টাকা বিক্রি করে তার ৪০হাজার টাকা লাভ থাকবে বলে জানায়’। একই গ্রামের খলিল মুন্সি,জনু শেখ ও জালাল শেখ বলেন ‘ গত বছর লোকসান খেয়ে এ বছর ধার দেনা করে পেয়াজ লাগিয়েছে তারা ফলন ভালো হওয়ায় বিঘা প্রতি ৬০/৭০মন পেয়াজ হওয়ার পাশাপাশি মৌসুমের শুরু থেকে পেয়াজের বাজার মূল্য বেশি থাকায় এ বছর অর্থনৈতিক ভাবে লাভের মুখ দেখছে বলে জানায় তারা’।
এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় মুড়িকাঠা পেয়াজের মান ভালো হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন বেশি হয়েছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়,এখানকার পদ্মার উর্বর পলল ভুমিতে মুরিকাঠা পেয়াজের আবাদ বেশি উপযোগি। এ বছর অত্র উপজেলায় প্রায় ৫ শত ৭০হেক্টর জমিতে মুড়িকাঠা পেয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নে ৩৪৫ হেক্টর,গাজিরটেকে ১৭৫ ও চর হরিরামপুরে ৫০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা মড়িকাঠা পেয়াজের আবাদ করেছেন। অর্তনৈতিক ভাবে এ বছর কৃষকরা লাভবান হওয়ার বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাহীদুল ইসলাম জানায় ‘এ বছর আমাদের দেশে মৌসুমের শুরুতে বিদেশী পেয়াজ আমদানি হয়নি,তাছাড়া আবহাওয়া ভালো থাকায় পেয়াজের মান ভালো হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত পেয়াজের সাথে চাহিদার সামনঞ্জস্যতা থাকায় মৌসুমের শুরু থেকেই ভালো দামে পেয়াজ বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছে কৃষক। আগামীতে অত্র উপজেলায় পেয়াজের আবাদ আরও বেশি হবে বলেও ধারনা করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।#

No comments:
Post a Comment