শত বছরে দশম বিয়ের পিড়িতে ওয়াজেদ - NEWS TODAY FARIDPUR

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, March 3, 2015

শত বছরে দশম বিয়ের পিড়িতে ওয়াজেদ

মোঃ রমজান সিকদার, ভাঙ্গা থেকে
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌর সদরের কাপুরিয়া সদরদী গ্রামে গত সোমবার বিকালে শত বছর বয়সে বর সেজে দশম বিয়ের পিড়িতে বসলেন ওয়াজেদ ফকির। বিষয়টি ওই এলাকার মানুষের মাঝে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করছে। আর কনে হিসেবে ছিল তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামের ইনাজউদ্দিন সরকারের মেয়ে মমতাজ বেগম (৪৫)। এক লক্ষ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শত শত উৎসুক জনতা নবদম্পতিকে দেখতে ভীড় জমায় তার বাড়িতে।  খবর পেয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমের সংবাদ কর্মীরা তার বাড়ি গিয়ে কথা বলেন এই নব দম্পত্বির সাথে।
আলোচনা ওয়াজেদ জানালেন, প্রথম স্ত্রী আমেনাকে হারানোর পর জীবন সঙ্গী হিসেবে তার ঘরে এসেছিল ফুলি বেগম, কুলছুম বেগম, আমিরন নেছা, হাছিনা বেগম, জমিরন বেগম, জরিনা বেগম ও নিহার বেগমরা। এদের মধ্যে ৫ জন ইতিমধ্যে মারা গেছে আর অন্যরা তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। আগের ৯ স্ত্রীর ঘরে ৭টি সন্তান জন্ম নিলেও নুরুল হক নামের বাক প্রতিবন্ধি ১টি সন্তান ছাড়া ওয়াজেদের কোন সন্তানই বেচে নেই।
গত ৪ মাস আগে ওয়াজেদের কনিষ্ট স্ত্রী নিহার মারা যাবার পর নতুন করে তিনি একজন সঙ্গীর খোজ করা শুরু করেন। স্রষ্টা তার ভাগ্যে মিলিয়েও দেন তার সঙ্গী।
আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাত তিনি আবেগ-আপ্লুত হয়ে পরেন। আবেগ জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার এত বয়স হওয়ায় আমার চলতে  ফিরতে খুবই কষ্ট হয়। আজ পর্যন্ত সরকার আমাকে একটি বয়স্ক ভাতা পর্যন্ত দেয়নি। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে যুদ্ধ পরবর্তীতে একটি নৌকা দিয়েছিলেন জীবীকা নির্বাহর জন্য। জীবিকার তাগিদে সেই নৌকাটি একসময় বিক্রি করে  দিতে হয় তাকে। ওয়াজেদ ফকিরের চাওয়া শেষ বয়ষে সরকার যেন তাকে বয়ষ্ক ভাতা প্রদান করেন।
নববধু মমতাজ বেগম সবার কাছে দোয়া চাইলেন আর বললেন, বাকী জীবনটা যেন আমি তেনারে সাথে নিয়ে বাচতে পারি।
শতবর্ষী ওয়াজেদের নতুন সংসারের জন্য শুভ কামনা রইল। #
ফরিদপুর, ৩ মার্চ।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages