জনবল ও বরাদ্দ সংকটে সদরপুরে ঠেকানো যাচ্ছে না জাটকা নিধন - NEWS TODAY FARIDPUR

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Sunday, March 1, 2015

জনবল ও বরাদ্দ সংকটে সদরপুরে ঠেকানো যাচ্ছে না জাটকা নিধন

সাব্বির হাসান.সদরপুর থেকে
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদীতে প্রতিদিন চলছে জাটকা নিধনের মহোৎসব। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন মন জাটকা নিধনের খবর পাওয়া গেছে। অর্থ বরাদ্দ ও জনবল সংকট থাকায় ঝাটকা নিধন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সদরপুর উপজেলার পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদীতে ইলিশ প্রজনণ মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের আগমন ঘটে এ নদ-নদীতে। ফলে স্থানীয় জেলেরাসহ বিভিন্ন জেলার অসাধু জেলেরা পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদীতে ইলিশ শিকারের জন্যে মাসের পর মাস তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং নদীতীরে বসতি গড়ে তুলে। প্রতিদিন  নদী থেকে জাটকা নিধন করে জেলেরা বিভিন্ন জেলাসহ সদরপুর উপজেলার বিশেষ করে মনিকোঠা, বাবুরচর, পিয়াজখালী, আকোটেরচর কালীখোলা বাজারে ভোর থেকে সকাল ৮টা ও বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশ্যে এই ঝাটকা ইলিশ বিক্রি করছে। পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদীর কাড়াল কান্দি, শয়তানখালী, নন্দলালপুর ও চরমানাইর ইউনিয়নের পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদের মোহনা থেকে সবচেয়ে বেশী ঝাটকা ধরা পরছে বলে জেলে সূত্র জানিয়েছে।
সদরপুর উপজেলা মৎস্য বিভাগের তেমন কোনো অভিযান না থাকায় জেলেরা সে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নদীতে সারারাত ইলিশের জাল ফেলে মন মন জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করে যাচ্ছে। এভাবে অবাধে ঝাটকা নিধনের ফলে ইলিশখ্যাত এলাকা ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার পদ্মা-আড়িয়াল নদীতে কমে যাচ্ছে ইলিশের সংখ্যা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে,২০১৪সালের পহেলা নভেম্বর থেকে ২০১৫ মাসের পহেলা জুন মাস পর্যন্ত মা ইলিশ নিধন বন্ধ এবং সারা বছর জাটকা নিধন কার্যক্রম বন্ধের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এ অঞ্চলের জেলেরা সে আইন মানছেন না।
মনিকোঠা বাজারের জেলে নিমাই দাস(৪৮) বলেন, আমরা প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন নদীর ঘাট থেকে জাটকা ক্রয় করে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে থাকি। আরেক জেলে হরিনাথ চন্দ্র(৫৭) বলেন, আমরা নিম্ম আয়ের মানুষ আমাদের দোষ কি? যারা মাছ ধরে তাদের বলেন আমাদের চাপাচাপি করে লাভ হবে না। পিয়াজখালী বাজারে জাটকা বিক্রেতা বিষাই চন্দ্র মালো বলেন, আমরা শুনেছি জাটকা বেচাকেনা নিষিদ্ধ  করেছে সরকার কিন্তু নদী থেকে জেলেরা মনে মনে জাটকা ধরে আমাদের নিকট বিক্রি করে আমার সেই মাছ বাজারে বিক্রি করি। জেলে গনেশ মালো(৫৭) বলেন, ঝাটকা নিধন বন্ধ করতে হলে নদীতে নজরদারী করতে হবে।
এব্যাপারে সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সজীব সাহা বলেন, নদীতে অভিযান পরিচালনার জন্য আমাদের কোন বরাদ্দ নেই এমনকি কোন যানবাহনও নেই। তাই ইচ্ছে থাকা সত্বেও সবসময় নদীতে অভিযান চালাতে পারি না। আর জনবল সংকট তো রয়েছেই। তবে প্রায় প্রতিদিনই আমরা কোন না কোন বাজারে গিয়ে ঝাটকা আটক করছি, ভ্রাম্যমান আদালতে মাধ্যমে জেল জরিমানাও করা হচ্ছে।
ফরিদপুর, ১ মার্চ।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages