নানা কারনে পেশা পরিবর্তন করছেন চরভদ্রাসনের বেদে সম্প্রদায়, বিলুপ্তির পথে দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য - NEWS TODAY FARIDPUR

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, May 13, 2015

নানা কারনে পেশা পরিবর্তন করছেন চরভদ্রাসনের বেদে সম্প্রদায়, বিলুপ্তির পথে দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য

আবদুস সবুর কাজল, চরভদ্রাসন:
“লাগবে.. চুড়ি ফিতা কানের দুল” এখন আর শোনা যায় না ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার কোন গ্রামে। একটা সময় ছিল যখন বেতের তৈরী বিশেষ ধরনের ঝাকায় করে বেদে বধুরা চুড়ি ফিতা, চিনামাটির পন্য নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরী করে বিক্রী করতো। এর মধ্যে এক শ্রেনী ছিল যারা বাত-ব্যাথা সারানোর জন্য ঝাড় ফুক দিত গ্রামে গ্রামে ঘুরে। পুরুষের কাজ ছিল মাছ ধরা ও পাখি শিকার করা। দীর্ঘ প্রায় ৬০/৭০ বছরের ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এরাও তাদের পেশার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। প্রায় ৩০টি পরিবার চরভদ্রাসন বাজারের সাথে অবস্থিত নদীতে নৌকায় করে ভাষমান জীবনযাপন করতো, এখন মাত্র দু’চারটি নৌকা অবশিষ্ট আছে। বাকী সবাই বিভিন্ন স্থানে জমি কিনে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেছে।
বেদে সম্প্রদায়ের এক মাত্র প্রবীন ব্যাক্তি ১০২ বছরের লাল বেপারী কালের সাক্ষী হয়ে এখনও বেঁচে আছেন। তিনি বর্তমানে ছেলেদের  সাথে ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার গোলাপী মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে বসবাস করছেন। লাল বেপারীর সাথে কথা বলে জানা যায় ১০/১১ বছর বয়সে পিতা জমাত আলী বেপারীর সাথে রাজবারী জেলার বড়াট নামক স্থান থেকে  এসে তৎকালীন হাজীগঞ্জ থানার (অস্থায়ী বর্তমান চরভদ্রাসন থানা) পদ্মা নদীর ঘাটে ৩০/৪০ টি পরিবার  নৌকা নিয়ে ভাসমান জীবন জাপন শুরু করে।
এ সম্প্রদায়ের বর্তমান প্রজন্মের যারা আছে তাদের কেউ কেউ বর্তমানে চরভদ্রাসন বাজারের একটি টিনশেড ঘরে পূর্ব পূরুষের পেশাকে অবলম্বন করে ব্যাবসা করলেও বাজারে তাদের কোন স্থায়ী দোকান না থাকায় নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হচেছ। মুষ্টি মেয় কয়েকটি পরিবারের ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক অনটনের কারনে শিক্ষার দিক দিয়েও বর্তমান সমাজের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে এ সম্প্রদায়ের ছেলে মেয়েরা। #

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages