ফরিদপুরের সালথায় চিনি, ময়দা আর কেমিক্যাল রং মিশানো খেজুরের পাটালি গুড়ে হাট-বাজার সয়লাব। অতিরিক্ত কেমিকেল (কালোজাম রং) মিশানো এসব পাটালি গুড় আসল খেজুরের বলে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছে। এ সব প্রতারক বিক্রেতা কর্তৃক প্রতিনিয়ত প্রতারনার শিকার হচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাযায়, ব্যবসায়ীদের বাড়িতে গুড় তৈরীর সাঁচ, ঘর ভর্তি চিনি-ময়দার বস্তা এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি। আর প্রত্যেক বাড়িতে পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে ১০/১২ জন লোক এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। একদিকে চুলার উপর তাফালে আগুনের তাপ দিয়ে চিনি গলানো অন্য দিকে সাঁচে ঢেলে জমানো, পরে কার্টুন ভর্তি করে বাজারজাতের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
ভাওয়াল ইউনিয়নের দরজা মোড় গ্রামের সালাম মোল্যা ও মনি মোল্যা এবং ঐ একই ইউনিয়নের পুরুড়া মৃর্ধা পাড়া গ্রামের বাবুল শেখ, ভাওয়াল গ্রামের আবু কালাম ও সালথা কলেজ মোড় এলাকার হায়দার আলী সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আরো অনেকে খেজুরের ভেজাল পাটালী গুড় তৈরী করা সহ পাইকারী ও খুচরা বিক্রয়ের কাজে নিয়োজিত আছেন দীর্ঘদিন যাবৎ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গুড় ব্যবসায়ী বলেন, আমরা ৪০ কেজি চিনির সাথে মাত্র ২ কেজি খেজুরের গুড়, রং তৈরীর ক্ষেত্রে উগ্র কেমিকেল আর আঠালোভাব তৈরী করতে পরিমান মতো ময়দা মিশিয়ে পাটালী গুড় তৈরী করে বাজারজাত করছি। গুড় তৈরীর কারখানার মালিকদের নিকট থেকে জানাযায়, রাজশাহী থেকে বস্তাভর্তি খেজুরের গুড় আমদানী করে তা আগুনে জ¦ালিয়ে গলানোর পর তার সাথে চিনি, রং, ময়দা সহ প্রয়োজনীয় উপকরন মিশিয়ে পাটালির আকারে তৈরী করে তা বাজারজাত করা হয়।
এ ভেজাল পাটালী গুড় বাজারে আসল খেজুরের গুড় বলে ১’শত থেকে ১ শত ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীর কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ।
উপজেল নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের হাসান বলেন, এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। #



No comments:
Post a Comment